যেখানে বারান্দার গায়ে নিজস্বীগুলো ঝুঁকে আছে হয়ত

কৌশিক চক্রবর্তী


 

রাত গল্প খায়। কালো কালো। পরবাস এসে বসলো ছায়ায়।

ছায়ার আলমারি থেকে চটিগুলো

একে একে সমুদ্রস্নান লেখে

ফেনা ফেনা রোদ্দুর খায়।

 

একা একা গল্প মাখি।

উপত্যকার বেডরুমে জড়ো হওয়া বারণ

গুলিপাথরের দাগ ছুটিগুলোকে

রোজ খুলে খুলে

হাড় গোনে।

 

আধশোওয়া কথারা লতিয়ে ওঠে

বুক থেকে আঁচল সরায়

আলুথালু গানের দোলনায় …

 

আমি তবু ওড়াউড়ির কথা লিখতে পারি না।

 

 

আজ কোনো নামের রাত লিখে রাখো।

খাঁজে খাঁজে মুখ রেখে

দিগন্তের কোথাও না কোথাও

ফুটে উঠছে ঘুমগান –

হারিয়ে যাওয়া ছাদের ওড়নায়

গলে যাচ্ছে তার জলবোতল

 

হাত পেতে দেখছি –

অনেক বৃষ্টি হারানোর বারান্দায়

চেনা অচেনা গন্ধেরা

কাঁদছে

 

 

রোদ পড়ে

লাল সাদা ঘুড়ি বাড়ি আসছে

 

আমার ঘুম পায় না।

মুখ থেকে সিঁড়ি ভাঙা হলদে লিরিক

মেঝেয় গড়িয়ে পড়ে

চুল এলানো

ঘন জঙ্গলের চিরুনি নিজেকে টানতে টানতে

এইবার পা গলালো ছুটির রিক্‌শায়

 

এই জানলায়

ছোটবেলাদের শুরু।

আমি আয়নার সামনে দরজা খুঁজি

মুখ বাড়াই

কোনোদিন না বলা ভাষা

আমায় গল্প বলতে বলে –

ঘুম পাওয়ার গল্প

 

 

ঝর্ণার নোনা দেওয়াল থেকে

এইমাত্র তার রবাব উঠে এসেছে

তার ঘর নেই

তার উপত্যকা নেই

ভাষা হারানোর অন্ধ মাঠ থেকে

এখনও সে ফিরতে পারেনি

 

কড়ি ও কোমলের রাস্তায় ভাঙাচোরা প্রলাপ পড়ে আছে

স্যাঁতস্যাঁতে পরী ভাসিয়ে দিলো

নৌকোর ফুলমালা

 

রাস্তাটা নতুন। সবেমাত্র অভ্যাস লিখছি তার…

আকাশ দেখার গোলাপি হাত দিয়ে

একলাদের সরিয়ে সরিয়ে

স্কুলব্যাগের ছায়া নিয়ে

হেঁটে যাচ্ছে কয়েকজন

 

সুতো মালিকের সরাইখানায়

একটা বাঘ

খুঁজছে খুঁজছে

সেলাইকল থেকে পালিয়ে আসা রাস্তার

কালো আর সাদা

 

 

তোমাদের নামের গা

জড়িয়ে ধরতে ভালো লাগে

অনেক উৎসবের পর

যখন বসবার জায়গা থেকে আর

উত্তাপ বেরোয় না কোনো…

তখন সিঁড়ি দিয়ে সুতো ছড়িয়ে দিতে ইচ্ছে করে

 

খালি লাটিম অধ্যুষিত নির্জনতা

ধরা যাক, তার নাম কেউ পারাপার রাখলো

গায়ে হালকা চাদর বিছিয়ে দিলো

লোডশেডিংয়ে

 

একেকটা রাতে লোভ পাল্টে পাল্টে যায়

চাঁদের ধার দিয়ে মনোবেদনার বাক্স নিয়ে

কে যেন চলে যায়

যমজ শব্দের দিকে

 

 

গেরস্থালি চাবিও ক্রমশ

ফুল হতে চায়।

সংক্রমণ লেগে গেলে

অপেক্ষার প্রহরগুলোয়

চোর ঢুকে দরজা খুলে দেয়

 

এই পাতা ঝরার বাক্য, খোলসের অজান্তেই

কখন যে তুমি আর তুমিদের কথা

 

আমাকে যত্ন করে শূণ্যতার প্রবাদ

অনিদ্রার আসমানি রুমাল

 

আমি ক্রমাগত ঠোঁট দিয়ে দিয়ে

অন্ধকারে রাস্তা বানিয়ে

আদরের পশ্চিম পেরিয়ে

কড়া নাড়ি

শরনার্থী গোলবারান্দায়

 

 

যেখানে বিকেল অসমাপ্ত থেকে যায়

সেখানে সমস্ত স্মৃতিফলকেরা গুমনামি

কুয়াশা মাখা নদী ঠিক

স্থির বসে আছে

কাউকে না কাউকে পড়ানোর আছিলায়

কাদের ফিসফাস

মাঝে মাঝে স্কেল পাল্টে ঢুকে পড়তে চায়

অপারের হাওয়াবাড়িতে

 

এইমাত্র আরও একা হয়ে গেল কেউ কেউ

এইমাত্র শেষ নৌকো ছেড়ে গেল স্টপেজ

 

মনে আছে সেইবার উপসংহারের তিন পৃষ্ঠা আগেই

বৃষ্টি নেমেছিল…

 

যতক্ষণ না পরের মুহূর্তটুকু পাওয়া যায়

ততক্ষণ ঘুম বা খেলাধুলো

সবটাই ছায়াপুতুলের বিস্মৃতি

 

বোবা হয়ে জ্যামিতি ক্লাসে হাসি এঁকেছিলাম

হয়ত সেসব পেরিয়ে আতসবাজিরা

একদিন কলরব হতে পারত…

 

 

সেইসব সম্ভাবনার কথা মনে পড়ে

খুব মনে পড়ে

 

 

বহুদূরে গোপন এক বৃষ্টি থাকে

মাঠ পেরিয়ে পেরিয়ে

আড়মোড়া ভাঙে

নিজস্বীর একলায়

 

রংধনু পেরিয়ে সহজে থাকি

আমাদের তরুচ্ছায়াগুলো

মন বলে একটাই

খুলে খুলে যায় বাজুবন্ধের কয়েক মাইল চন্দ্রালোকে

 

ছুটির নাম লিখতে গিয়ে কাচ ফুটে গেল

গানের অসুখে

 

আমার জামা থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছে

লুকোচুরির ভাষা

 

চুমু খাই তাকে

 

দেখি আরও একটা সন্ধেবেলা

মেঘ করে আসতেই

আখরোট বাগানের পাখিরা

কেমন

মিশে যাচ্ছে

সমস্ত জমিয়ে রাখা না-এ

 

 

ধরে নেওয়া যাক অনেকগুলো

আনন্দ লেখা ঘুর্নি আছে এই তালা দেওয়া দরজার আড়ালে

অনেকগুলো পর্যটন আছে

 

তবু যতক্ষণ না একটা নদী আসছে

ততক্ষণ ভুলে যাওয়াটুকু যেন

সম্পূর্ণ হয় না

 

এসো ভুলে যাই সব

 

ঘুমের ভেতর দেখি

কুমারী নদীর পৃষ্ঠা ছিঁড়ে যারা

নিজেদের নাম রাখলো জলের স্নেহ দিয়ে

কেমন করে তাদের প্রচ্ছদ থেকে

বেরিয়ে আসছে

অনেকগুলো খিদে পাওয়া ট্রামলাইন

 

১০

 

ছাপার অস্পষ্টে তোমারও তাহলে

নয়না লাগে

পিয়া তুমি ভুলতে পারো না

পাশ কাটিয়ে যাওয়ার ব্রিজ

 

মার্গারিটা আর মোমবাতি থেকে

আমি তোমায় ডাকিনি

কুড়িয়ে নেওয়া আয়নার হেমন্ত থেকে

আমি তোমায় ডাকিনি

ফাঁকা বুটিকের মাধবী থেকে

আমি তোমায় ডাকিনি

 

ঠিকানা হারানো জুতো ধুয়ে নেয়

সমস্ত দুঃখ

এলোমেলো ভালোলাগাগুলো নাড়তে চাড়তে

আমি দেখি

বারো বছর পেরিয়ে আবার কেমন

ফিরে আসছে

হারানো চশমা

 

 

 

 

১১

 

ভুলের আঁখিজল লিখলেই এইসব পাহাড়ে ব্যথা বাজছে।

 

এই স্পর্শ মল্লার।

 

বারান্দার ধারাবিবরণী আলোয় ফুরোলো ঘুমতোলা কুয়াশাছাপ জামা।

যে কারনে কাহিনিটি তুলে এনে গল্প করে লিখে রাখলাম উম্‌ম্‌   তোর

পথগুলো সাদা সাদা জেব্‌রাতের রাস্তাঘাটে মোড়া

 

সামান্য শব্দে আলো নেভা পর্যন্ত অপেক্ষারা একঝলক রুহ্‌

 

তার স্নান ঝিলিমিলি জল জানে।

জানে জান ও অনেকটা জানা ।

যে কারনে ভ্রমণ সর্পিল

 

তুমিও তো জানো

 

১২

 

কথাদের লেপে অন্ধকারগুলো যতিচিহ্ন … স্মৃতিদাগ

যে কারণে ওড়বার কথা উঠলেই

মনোরম খেলারা সিঁড়ি ভেঙে

রূপকথা

 

মৃদু শীতকাল দেখাচ্ছে বঁধুয়া

 

গিটারের লাল আর প্রবেশক পথের গালগল্পেরা

আপাতত বৃষ্টি সিক্ত

 

আনকমন লেটারহেড থেকে সেই ফাঁকে

অ্যাংলো পাড়ায়

আচমকা পাখিরা

এসেছে

 

১৩

 

বর্ণমালা, তার পাথর

আস্তে   আসতে জলে পড়ছে

তারপর বলয় রিং রিং ধ্বনি

হাসছি এবং হাসছেও

 

নতজানু হয়ে আছে ব্রিজ

পেরিয়ে যেতে হবে

 

চোখের ফাঁকে ফাঁকে কী এক প্রগাঢ় বীজতলা

 

ও-পারে আজকে বিয়ের খোশবাই বাজছে

 

ফেরত আসা ভোরবেলায় অথচ বারবার

চাহিলেও কেন তারে পাওয়া যাচ্ছে না

 

১৪

 

পিয়া কি নজরিয়া জাদুভরি।

এ মা… জানতে না?

খসখসে দরজা জানলায় সেই যে ছুটি লেখা – তার ঘর হয়ে ওঠা – দেখাশোনা হয়ে ওঠা –

পাখি জানে না

জানে মন

 

১৫

 

ঋতুরা খুলে খুলে এই দেখো সকাল হলো। যেন কিছুতেই কিছু পুরোনো ছিল না। জানলা খুলে তাই শ্যামল এনেছে শ্যামলিমার নতুন। পাহাড় বেশি করে দেখলেও, এক মাত্রা ভালো মাখিয়ে একবারই দেখেছি। গানগুলো সেই সব শ্যামল পেরিয়ে আজকাল সবুজের দিকে চলে যায়।

 

ভোর হলে তালে তালে বাড়ি হয়ে ওঠে

এবার ছুটিতে এসে একবার দেখে যাও

 

১৬

 

মৌবনে ডুব দিচ্ছে আটপৌরের হেমন্ত। চিকন পেরোয়। ছায়া সেখানে তার ভেসে থাকার আদুরী। রোদ ওড়ানো বারান্দারা সেই ফাঁকে বোতাম বাজায়।

 

ছলাৎ কলোনি। যাতায়াত ভাঙার রাস্তায় ছ্যায়ল ও ছবিলা একা একাই উড়ছিল এইসব ওড়াউড়ির হাওয়ায়।

 

আমি গেলাম না। পাখিদের দোলনা থেকে রুমালেরা হারিয়ে গেল এখানে ওখানে।

 

১৭

 

শিশুমেয়েদের ত্বক থেকে ডাক দেয় আকাশের ভ্যানিলা। টানটান।

 

ছুটির মৌসম রোজ আলো মাখছে আজকাল।

 

বিতানের খাঁজে আমিও মুখ রাখলাম।

গোড়ালি দীর্ঘ হয়ে নদী হলো…

 

১৮

 

আলোবাতাসের চোখ থেকে গড়িয়ে নামছি মাঝরাতের লেখায়

 

কব্জির উল্কি আস্তে আস্তে তার নতুন গল্পের কথা ভুলে

ঝরে পড়ছে আয়নার প্রাক্‌-জন্মে

 

কাচের জাহাজ বন্দরখানায়

ঠিক যেরকম অনবদ্য ঘুমিয়েছি

প রি যা য়ী

 

রুহানি আদরে সেরকমই আজ

নীরবতার বর্গক্ষেত্র

তার কীটপতঙ্গের বাতিঘর হাত ধরে একদিন

সেইসব আবছায়ার নিকটতম প্রতিবেশী …

সংখ্যাগুলো ক্রমে ক্রমে

দোতলার রেডিওগানে

হেলান দেওয়া

 

এই নেমে আসা

বৃষ্টি পতনের জলটিকে এরপর অমরত্ব লিখে দেবে

 

 

 

 

 

১৯

 

প্রত্যাখ্যান আসলে সিঁড়ির মধ্যবর্তী ডাকনাম

 

বাদ বাকি খেলার মাঠ

যা কিছু, শুধু আলোর অন্ধত্বলেখা …

 

যেভাবে ডাকলে এখানে

কারোর আর কোন জন্মদিন নেই

 

২০

 

একটা মুখের ভেতর দিয়ে সরে গেল অনেকগুলো বৃষ্টি উৎসবের স্তূপ

 

পাহাড় ডিঙোচ্ছে তার নির্বাসনে লেখা আত্মকথনের নাম

 

এইখানে ঘুমের স্মৃতিকথা ভুল করে দূরপনেয়

ধরা যাক এই সেতুটির নাম নীল

ছদ্মবেশী শেকড় নিয়েছিলে, না ?

জল তোলার বারান্দায় সেই গল্প লেখা সন্ধের কোরাস

না ঘুম না ঘুম এক শীত বলেছিল …

 

ধরা যাক তার গোলাপি রংটি এখনও আদরে চোবানো

 

তার মেটে রাস্তা ধরে আপাতত নৌকোটি ভাসমান

তারপর একদিন রাস্তাদের জ্বর হলে

আমরা মানচিত্রদের বিষণ্ণতা লিখে রাখি …

 

ধরা যাক তার হারিয়ে যাওয়াটুকুই একমাত্র জন্মকাহিনি

 

চৌরাস্তায় গানগুলোয় আতর লেগেছে

অনেকদিনের জল দাঁড়ালো অক্ষরমালায় যাওয়া লিখে রাখছে

সরু সরু মেধাবী ছুটির দিন

তাদের উপহার আলগোছে দু-হাতে পরেছি

 

চন্দ্রালোক ছাড়াই অনেকগুলো গান

আজ আকাশে বাজছে

 

২১

 

সেতুর বিকেল শুনে গায়ে হলুদের টানগুলো

আলো হল।

গল্প লিখছে      কুয়োতলার ঘরবাড়ি

ঘরবাড়ির হরিণ

হরিণাহরিণী

 

পাউডার মাখানো রাস্তায় আরাম নামলো খানিক।

তারের বারান্দারা পাখি হলে

আমিও পেরিয়ে যাব ছায়াদোলনা…

 

জামার আজানে দোভাষীর ব্যাখ্যা ভিজছে।

ছিটকিনির বোতামঘর থেকে

টুকি দিল রেললাইনের গৌরীবন –

বাড়িপক্ষের জলগুলো আজ যেন

চাঁদ হয়ে দু-একটা

দুঃখ গেয়ে যায়

 

২২

 

সবুজ রানওয়ের ট্রেন

সন্ধের তুলোয় ম’ ম’…

গলিছুট ত্বকের ছিটমহল গুঁড়ো গুঁড়ো দেহাতির বর্ষা গাইছে।

গা-ভার নদীদের ননদিনী বাঁশি লিখে কুড়িয়ে নিল কিস্‌সার বাগান।

 

একটা ধ্বনির বিরহ তার কেটে ক্রমশ বড় হচ্ছে।

আঁচলের গোলাপি থেকে একে একে বেরিয়ে আসতে চায়

খানিক লালচে মানে দেয়া নেয়া

যাতায়াত খোলা হলে রঙ বেপরোয়া নাম নেয় –

গাছতলায় ফকিরির ঝোলা পড়ে আছে।

সিঁড়ির ভাঁজকপাল থেকে তার গান নখ কাটে।

 

একটা সাইকেল বসলো ওপাশে।

আস্তে এবং আসতে শশীর আয়নায়

ছাতার আবছায়া তারপর নখরাঙানো

যামিনী।

 

ছোট ছোট ক্রিংয়ে দেখো

বিলি কাটছে

অনেকগুলো কতরকম মানে

 

২৩

 

মাথায় চাঁদগুলো বসতেই টয়ট্রেন ঝিমোনো হাওয়া পাখি হয়

আহা যেন কোনোদিন স্বপনে ছিল না

 

বানানো গল্পের দেওয়াল আঁকা রাখছে

বানানো রাখছে দেওয়াল গল্প আঁকায়

একা একা         হয়ে ওঠা এক

 

দরজায় দাঁড়ানো জল উড়ে গেল স্নানে। তাকে বালিশে রেখেছি… যেরকম পিছুটান। বৃষ্টিরাত।

একটা নিস্তব্ধতা এসে অক্ষর আঁচড়ে আজ অন্ধকারে কণিকা রেওয়াজি। মহুয়া বিলোচ্ছে তার হাওয়ায় হাওয়ায় কবেকার নিরিবিলিতে যেতে যেতে গানগুলো আদর মাখছে

যেভাবে বানান বদলে ছুটিগুলো আচমকা শৈশব পেল…

 

২৪

 

ওয়েটিং রুম ঘিরে আছে সেমিকোলনে

কাচের সন্তাপে মাছ

দস্তানা ভরছে

বিছানায় সমুদ্র নবধারাজল লেখে

যেহেতু একেকটা ঠোঁটের ব্যবধানে

মাতৃভাষার নতুন নতুন নাম পায়

 

২৫

 

সুহানা সফরে বুজে যাচ্ছে নখের শীতকাল

এলো গায়ে হ্রদ

শুয়ে আছে ধোঁয়ায়

শহর এবার এক সেল্‌ফ-পোর্ট্রেট

তোষকের ভাঙচুর ব্যালকনি

সাদায় চুপ ভবনের শিশুমাখা

হলুদ মার্মালেড আর

যা বলছিলাম

 

২৬

 

তবে এই ক্লান্তি পড়ছি

কুকুরের শব্দ

না লেখা জানলায়

রিডিক্যুলাস বলবে না ?

মুখের নিয়নে পাখারাও

কালো কালো

আপেল ভাঙছে

চৌকো নাভির ধাপে

ক্রমে অশ্বক্ষুর মাটিরং

তর্কপ্রিয়               ধাঁধানোজটিল প্যানোরামা

মোড়ক উপহারে এই প্রত্যাবর্তনজল

যদি না-ই নাও

না না

তবে থাক

 

২৭

 

যতটুকু বেড়ানো

এইখানে

ততটুকুই আবহাওয়া

 

জলে হাত ডুবিয়েছি

 

রূপসা রূপসা

বাংলার সমস্বর ধ্বনি নিয়ে

অনেক ওপর থেকে ভাসান দেখছি

 

শ্রুতি থেকে গল্পেরা

একটা বৃষ্টির জন্মদিন শেষে

কোন এক জন্মান্ধের

শ্রবণ হয়ে যাচ্ছে

 

 

 

 

২৮

 

ঋতুরা আন্তরিক হলেই আমাদের বাড়ির বাদাম ক্ষেত সস্ত্রীক গাইতে শিখে যায় –

মুনিয়ামোড়া পাখিদের ঠুংরি।

 

ঠুং ঠাং আঙুলের নজাকতে নাজুকের আঙুর

বঁধুয়ায় বাজে

 

বসে আছি হে – তবু কিছু শুনতে পাই না।

দোল দেয় শুধু শুধু রোদের রুমাল।

বাজনাবদলের ফাঁকে ফাঁকে গালগল্প ঢালে

কয়েকটা উশকো খুশকো রঙের বোতল।

 

আমাদের আমি ঠোঁট পার করে দিতেই

কয়েকজন ঘুরে বেড়ানো লোকের নিজস্ব চিনিবিস্কুট

আজকাল দেখি ঘুমের ভেতর তখন কেবল

ছাদ খোঁজে

 

২৯

 

আরও একটু সহজ লেখো।

অনেকটা প্রচুর এসে ঝিম রাখছে …

 

ছড়াও ছড়াও

এই সব দেখাশোনা মিথ্যেকথা ক্রমে ক্রমে … পাখিদের কাটাকুটি… রংপেন্সিল অরণ্য

আমার অদেরী আজও খুব

খুব আজ আঙুলের দেখাশোনা বুলবুলির চোখ

 

দরজা বন্ধের চুমু, ঘনক

তার আগেকার মতো…

শুরু করতেই সব সমস্ত অবাকগুলো

মহলায় ওম দিয়ে বাজনদারের বিকেল

 

সহজ হয়ে দেখো – আয়নায় বোতাম লাগছে আর

সবকটা পাহাড় যেন মুহুর্তে হাওয়ার জন্মদিন

 

 

 

 

৩০

 

সিঁড়ি ভেঙে ভেঙে দোঁহে মিলে মেলাচ্ছে দহন

এ ভরা ভাদর আহা বারান্দায়…

 

শূণ্যতার মেহেন্দি কানাগলি ফেরত মাদারিওয়ালার শীৎকার শুনে

একে একে ঘুম ধরে ভরছে মাংসে

 

আইসক্রিম শহরের নিস্তব্ধতা

হেলে পড়ে আসছে

পকেটের আলাপে

 

আর বোতামের রেখার কাছে

হাফ ডে’র নৌকো ভিড়িয়ে

গাঢ় ও আলাদা করা একটা লম্বাটে বৃষ্টির ফ্লুরোসেন্টে

আমি তখন

ঝাঁক বেঁধে

অবাক লিখছি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *