উদ্বৃত্তের পান্থশালায়

উল্কা


সম্পর্কের রেখে যাওয়া সুপুরির ওপর ঝরে পড়ছে বিন্নি ধানের খই। এই গতানগতিক ঝরে পড়া সময়ের হাতঘড়ি ধরে গুনে চলেছে নয় ছয়ের ঘর দালান। চৌকাঠ ডিঙোতেই ঠিক পঁচিশ ধাপ শব্দ পেরিয়ে টের পেলাম কিচ্ছু মনে পড়ছে না। বাস ট্রাম ট্রেনের চাকার ব্যাসার্ধ জুড়ে যাঁতাকলের মতো ঘুরে চলেছে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। কিভাবে এগোলে একটা গদ্য মুক্ত হতে পারে? কিভাবে পাঁচমেশালি দলবৃত্তের দল এবং বৃত্ত ভেঙে বেরিয়ে যেতে পারে ধর্ম আশ্রিত জিরাফ?

কিভাবে…? কিভাবে…

প্রশ্নগুলোও একের পর এক ভেঙে বেরোচ্ছে উচ্চ গ্রামের নিম্ন মধ্যবিত্তের পাঁচিল। তাগিদ এবং তাগাদা রাখা রয়েছে দুটো টেস্ট টিউবে। সামনে রাখা রয়েছে হাওয়াই চপ্পল আর বৈপরীত্য উত্তাপ। একটা অনুদিত দাস ক্যাপিটলের তালপুকুরে কড়ে আঙুল ডুবিয়ে বসলাম। মনে পড়ার মতো উটকো অভ্যাস দাঁত মাজার ব্রাশে ঘষতে ঘষতে আধা খ্যাচড়া হয়ে মিলিয়ে গেছিল বাবল্গামের ট্যাঁটু। অতঃপর মন নিবেশে খই চিবনো দাঁত। জিভ বলেছিল ধানের নাম বিন্নি!

এই সময়ে হাজার ভুলের মধ্যেও ঠিক ঠিক বলে উঠল কেউ। কাচের ওপারে ছায়া শরীর। খসে যাওয়ার বিচ্ছেদ বেদনায় ছটফট করে থেমে গেছে উচ্ছিষ্ট। খবর নেওয়ার পর পালিয়ে যাওয়াই একমাত্র উপায় ছিল কেবল। তোমার ব্ল্যাকলিস্টে মাস দুই কেটে গেল। কেটে গেল ফোন করার অছিলায় মন কেমনের ভালো থাকার ইচ্ছে। সাবলীল ভাবে দেখছি ঢেউয়ের মতো অভ্যাস। কখনও গড়ল কখনও ভাঙলো। আজ দেখলাম অনভ্যাসের খাতায় গড়গড়ে মুখস্থ নম্বর। বেগ পাচ্ছে। ধাক্কা খাচ্ছে এক অঙ্কের গায়ে অন্য। ডিসটেন্সিং বানান করতে গিয়ে গুলিয়ে ফেল্লাম অন্তরঙ্গে আবদ্ধ যুক্তাক্ষরী শ্লেষ। এক অজানা আশঙ্কায় ঘুম আসে না। আশঙ্কা- পথে নেমে গন্তব্যে পৌঁছাতে না পারার। অন্ধকারের মধ্যে ছাপ রাখার পর গবেষণাগার হারিয়ে গেছে মাত্রাতিরিক্ত ভিড়ে। তালা আঁটা দরজায় ঝুলছে- চাবি ঘোরানোর নিয়মাবলী। কিছুটা ডানে কিছুটা বাঁয়ে এবং পুনঃপুন। তারপর দীর্ঘশ্বাস জরিপ করতে করতে শব্দের বিপরীতে ছিটকে পড়ল শিকারী।

একেকটা ভাইব্রেশন খুব দুর্দম মনে হয়। যেমন ঠিক এই মুহূর্তে আমার মনে হচ্ছে একটা চরম হার্ট অ্যাটাকের ভয় চেপে ধরছে শ্বাসপ্রশ্বাস। মাইল খানেক দৌড়ের পর যেভাবে হারিয়ে গেছে সূচনা, সেভাবেই চড়াই উতরাই দমন করে ঢুকে পড়ছি রাতের ক্যারাভ্যানে। আবিষ্কার করলাম এক কোনায় উবু হয়ে রয়েছে ফিডিং বোতল- ঘুম আসবার অপেক্ষায়। ক্যারাভ্যানের বুকশেলফে সিন্ডারেলা কিংবা হ্যান্সেল-গ্রেটেল সামলে তুলছে ছড়িয়ে যাওয়া গল্পের প্লট। বহু গতানুগতিক চেষ্টার কম্পাস বসিয়ে গোল ঘেরের লক্ষ্মণ রেখা টানা চলেছে মেঝেময়। আরশোলাদের ওড়ার সময় এল কিন্তু ঘুম শুকিয়ে রইল হোয়াইটনারের ঘোলে। হাতুড়ি পিটিয়ে ঢাকনা আলগা করার মোহ সামলে চটজলদি আসামী মুক্তির আবেদন জানিয়ে তীব্র হওয়ার সাজ। যাবজ্জীবন মাথা সামলে জেলের মেন গেট টপকাল। সাহায্যের হাতগুলো পিঠ চুলকাচ্ছে। রোদ পোহানো পিঠে জল ফোসকার মতো ইগলু। টলটলে ঘিলুর মতো চাপ খেয়ে বারবার নড়েচড়ে বসছে লাফিং বুদ্ধ। ফ্যাংশুই বিশ্বাসীর লুলাবাই ভেসে আসছে কঠিন মাধ্যমে। তারপর গ্যাসীয় থেকে তরল। পাত্র থেকে তরল হঠাৎ সংজ্ঞা হারিয়ে মেহগনি শয্যায়। ক্রমে মানচিত্রে বয়ে চলা নদীর শুষ্কতায় আধার হল প্রশ্ন মুক্ত ঠোঁট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *