প্রবাদবিহীন অন্ধকার -ব্লাইণ্ড ব্যাণ্ডিটস

ঋষি সৌরক অরণ্য


গতকাল চাঁদের আলোটা ছিল গভীর। বিশেষ্যহীন।হাওয়া এমন, যেন সেই আলোকে সরের মত সরিয়ে নেবে দূরে কোথাও। অদূরে বিমূর্ত অন্ধকার। গজিয়ে উঠছে গোটাদশেক বৃক্ষ স্মৃতিময়। নিরীহ। দুর্ধর্ষ। অথচ শ্রোতা। অন্ধদস্যুদের মাথা দুলছিল। দুলছিল জটায় গাঁথা টিমটিমে নীহারিকার গান।  যেন এমন এক সন্ধ্যার অপেক্ষাতেই তাদের জন্ম হয়েছে। একটা পুরানো ছাদের মদ যেমন হয়। মাদুর বিছিয়ে রাখে আর কিছু মণিহারা গল্প। ইন্দ্রনীল ঘোষের মত অন্ধকার জলের বোতল। অনিন্দ্য রায়ের মত রাফ সারফেস। সুদীপ চট্টোপাধ্যায়ের মত খাম খেয়ালি। এইসব… সামগ্রীময়। অসম মেলবন্ধন
আসলে বিশেষ্য যেস্তরে বিশেষণ হয়ে ওঠে। জৌলুষহীন। সে’ও কি ছন্দ নয়? সচেতন ডানার। অর্ধ এক খেয়েছে অন্ধকারের ‘সম্ভবত কনকচাঁপা’ মৃদু ব্যঞ্জনা। কানা উপভাষার সিঁড়ি সে ভাঙলো বলে। সাধারণ গল্পের ভেতরে যেসব পুনঃ পুনঃ। আবৃত্ত থাকে, অথচ শ্রুতিমধুর। ছড়িয়ে থাকা বাঁকড়ি কুড়িয়ে নিচ্ছে তাদেরই জনাতিন। অন্ধদস্যু।সেভাবে কিছু প্রমাণের কোনও তালাচাবি নেই। নেই সময়কে পেরিয়ে যাওয়ার শীর্ণতম লাফ। যেভাবে যেটুকু সহজ৷ তেমনই সহজ ছিল কালকের গভীরতা। পাতকুয়ো আলো। ফেলে রাখা চাঁদ। দস্যুরা যাকে একটু একটু পাচ্ছিলো।  শূণ্যমাধ্যম। কেটে যাওয়া ঘুড়ি। কাছেপিঠে কোথাও তখনো আটকে। ছটপট করছে, নিশুতি রাতের পাহারার মত। তার শিস হয়ে উঠছে বিভ্রান্তিকর।
দৃশ্য। তখন অন্ধকার নিজেই। নিজেকে কাটিয়ে উঠবার নেশায়। ঘুড়ি হয়েছে। একজন অন্ধ বলে উঠলো, আমরা কি এসব পেরিয়ে আরেকটু যেতে পারি না? এমন আলোতে তাই শব্দ ছুঁড়ে দেখা গেল, গভীরতা ফিরে আসে কিনা। প্রতিফলন, শুধুই অসমবয়সী। বন্ধুত্ব। মেলবন্ধনের ফেলে আসা। তোপ। কে কীভাবে উদ্ধার করে নিজেকে চেপে বসেছি আগামীর ডুবো জাহাজে। মাধ্যাকর্ষণের উন্মাদনা শিথীল হয়েছে অনেকখানি। এখন শুধুই ভেসে উঠবার গান। গায়ে লেগে আছে। আর একটু একটু করে উধাও হয়ে যাচ্ছে পাতকুয়োয় প্রলম্বিত গদ্য।
গতকাল চাঁদ। চাঁদের আলো উভয়েই বিশেষণ হয়ে উঠেছিল। দস্যুদেরও কখনো না কখনো একটা শৈশব থাকে। থাকে পাতকুয়োয় ঝুঁকে পড়া। একটা আলতো ধাক্কা। এই তো দেখা হওয়া। টেলিস্কোপে চোখ রেখেছেন আকাশ চেনার দুর্নিবার। এঁরা বলছেন চাঁদ একটাই। জলে-স্থলে-অরণ্যে তার মলিন দাবদাহ। কিন্তু অন্ধ, ততোধিক দস্যু হয়ে ওঠা প্রবাদপ্রতিম…চাঁদ ততটাই জোরালো, যতটা তুমি নিতে পারো । মাথা দুলছিলো। কাটা ঘুড়ি উড়ছিলো। হাল ছেড়ে দেওয়ায় মাধ্যাকর্ষণ, নৌকাটি একসময় প্রবাদের চালেই তলিয়ে গিয়েছিল দৃশ্যে। সবচে জরুরি কথা। এই দেখা হওয়া। মতান্তরে ধাক্কার। কোথাও কোনও প্রজাপতি। বা পাখি ছিলো না। প্রয়োজনও ছিল না। অদ্ভুত…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *