লকডাউন

শ্রুতকীর্তি


“লকডাউন” শব্দটা যে আমাদের যাপনে এভাবে ঘাড়ের ওপরে বসে নিশ্বাস নেবে, তা কি স্বপ্নেও ভেবেছিলাম কোনোদিন? মাঝেমাঝে আমি স্বেচ্ছায় নিজেকে গুটিয়ে নিই পৃথিবীর থেকে,কিন্তু সেটা তো ইচ্ছাকৃত! ভাবিনি কখনও একদিন দরজায় গণ্ডি কাটা হয়ে যাবে আর আমরা সবাই হব ‘লকড্ ডাউন’। প্রশ্ন হল ,এই সময়টাতে নিজেকে কি একটু বেশি ভালবাসলাম? আর যদি কখনও না-ই বেসে থাকি, তাহলে কি এই সময়টায় একটু মায়া হল? হল বোধহয়, তাই স্নান করার সময় শাওয়ার থেকে প্রথম বিন্দুটা প্রাণ দিয়ে শুষে নিই। অনেকটা সময় নিয়ে থালা সাজাই, ওই ঠিক যেরকম ফুড-ব্লগাররা করে! শেল্ফ থেকে বের করি তুলে রাখা সেরামিক্স, ওয়াইনের গ্লাস আর একটু একটু করে সেজে ওঠে আমার যাপন। আমি কথা বলি আমার বারান্দাবাগানে যত্নে হয়ে ওঠা গাছেদের সঙ্গে, এত যত্ন ওরাও কি কখনও আগে পেয়েছে? স্বার্থপরের মত ভাবি, এই এত যত্ন, হয়ত সেটাও আসলে আমার নিজের মনেরই পরিচর্যা! এভাবে দিন গড়িয়ে যায় আর আমি প্রেমে পড়ি নিজের। দেখি জাঙ্কফুডের অভাবে কীভাবে আস্তে আস্তে ঝরে পড়ছে এক্সট্রা ফ্যাট আর কীভাবে না রঙ করা চুল হয়ে উঠছে স্বাভাবিক খয়েরি। চোখে পুরোনো ঔজ্জ্বল্য আর মুখ পলিউশনহীন। আমার এই একাযাপন যেন মোমবাতির আলোর নত নরম, স্থির। সব কাজের বাইরেও নিজের সঙ্গে নিজের ডেট! লুকিয়ে থাকা রোমান্টিসিজম। বাইরের দিকে আর তাকাই না। খবর পেতেও চাই না। ভাবনার অনেক দূর দিয়ে চলে যায় রেলগাড়ি, মন আর চায় না হাইওয়ে। আমি সকালে চোখ খুলে ভিটামিন ডি খুঁজি।এভাবেই যদি কোনোদিন সমাপ্তি হয় আফশোস হবে না। আমি শেষ সময় পর্যন্ত আদর করব নিজেকে…সমস্ত ভালবাসা ঢেলে দেব কফিফ্রথে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *