আদাম জাগাজিউস্কি-র কবিতা

অনুবাদ – শৌভ চট্টোপাধ্যায়


লেখক-পরিচিতি

আদাম জাগাজিউস্কি -র জন্ম ১৯৪৫ সালে, উক্রাইনের লুওভ (Lvov) শহরের এক পোলিশ পরিবারে। সময়টা ছিল ঘটনাবহুল, এবং মধ্য-ইয়োরোপ ছিল, বিশেষ করে, সেই সময়কার বিভিন্ন নাটকীয় ঘাত-প্রতিঘাতের কেন্দ্রবিন্দু। ১৯৪৪ সালে, সোভিয়েত লাল ফৌজ, নাৎজি জার্মানির কাছ থেকে পোল্যান্ডের বেশ কিছু অংশ ছিনিয়ে নেয়,‌ এবং তার প্রশাসনিক দায়িত্বভার অর্পণ করে পোলিশ কমিটি অফ ন্যাশনাল লিবারেশন বলে একটি নবগঠিত কমিউনিস্ট সংগঠনের হাতে। এদের সঙ্গে, সেই বছরেই, সোভিয়েত রাশিয়ার একটি চুক্তি সম্পাদিত হয়। আর সেই চুক্তি-মোতাবেক, সোভিয়েত উক্রাইনে বসবাসকারি প্রায় এগারো লক্ষ পোলিশ-ভাষাভাষী মানুষকে রাতারাতি বিতাড়িত করে পোল্যান্ডে চলে যেতে বাধ্য করা হয়। জাগাজিউস্কি  পরিবারও, আরো অনেকের মতো, নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে, দক্ষিণ পোল্যান্ডের সাইলেসিয়া অঞ্চলে, গ্লিভিৎজা (Gliwice) শহরে এসে আশ্রয় নেয়। আদাম জাগাজিউস্কি র পুরো ছেলেবেলাটাই কেটেছে এই গ্লিভিৎজা শহরে। এখান থেকেই, ইশকুলের পাট চুকিয়ে, তিনি পাড়ি দেন ক্রাকোভ (Krakow) শহরে, ইয়াগিয়েলোনিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে মনস্তত্ত্ব ও দর্শন নিয়ে পড়াশোনা করবেন বলে। ১৯৬৭ সালে, জাগাজিউস্কি র প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয় জেইচে লিতেরাৎস্কি পত্রিকায়।

যেসব লেখকরা, পোলিশ সাহিত্যে “নবতরঙ্গ” বা “প্রজন্ম ‘৬৮”-নামক সাহিত্য-আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটিয়েছিলেন, জাগাজিউস্কি  ছিলেন তাঁদেরই একজন। সাহিত্যে কমিউনিস্ট ভাবধারা ও অনুশাসনের বিরোধিতা করা, এই আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য ছিল। জাগাজিউস্কি র প্রথমদিকের কবিতায় এই প্রতিবাদী স্বরের উপস্থিতি বেশ স্পষ্ট টের পাওয়া যায়। যদিও, পরবর্তীকালে, তাঁর লেখার ধরণ ও অভিমুখ, দুই-ই পালটে গিয়েছে। মাঝে, পোল্যাণ্ডের কমিউনিস্ট সরকার, তাঁর লেখা সে-দেশে নিষিদ্ধ বলে ঘোষণা করেছিলেন। ১৯৮২ সালে, জাগাজিউস্কি  তাঁর দেশ ছেড়ে, সস্ত্রীক, পারী শহরে স্বেচ্ছানির্বাসন গ্রহণ করেন। যদিও, কুড়ি বছর পর, ২০০২ সালে, তিনি এবং তাঁর স্ত্রী পুনরায় পোল্যাণ্ডে ফিরে যান। পাঠক লক্ষ করবেন, দেশ-ছাড়ার আলগা বেদনাবোধ, স্থানচ্যুতি, কিংবা শিকড়হীনতার অস্বস্তি, বারবার জাগাজিউস্কি র লেখায় ঘুরেফিরে এসেছে, ফিরে-ফিরে এসেছে দীর্ঘ ভ্রমণ, কিংবা অনির্দেশ্য যাত্রার অনুষঙ্গ। কখনো প্রত্যক্ষভাবে, কখনো চুপিসাড়ে।

এই মুহূর্তে, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীবিত কবিদের মধ্যে, জাগাজিউস্কি  একজন। ২০০৪ সালে তিনি পেয়েছেন নয়স্টডট সাহিত্য পুরস্কার, গুণমানের বিচারে যাকে প্রায়শই নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে তুলনা করা হয়ে থাকে। এ ছাড়াও, গ্রিফিন পোয়েট্রি প্রাইজ, হাইনরিখ মান পুরস্কার, প্রিন্সেস অফ আস্তুরিয়াস পুরস্কার-সহ নানান আন্তর্জাতিক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন জাগাজিউস্কি । কবিতার সংকলন ও নির্বাচিত কবিতা মিলিয়ে, তাঁর এযাবৎ প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা চোদ্দো। এছাড়াও রয়েছে গদ্য ও নিবন্ধের বই। বর্তমান অনুবাদের কবিতাগুলি বেছে নেওয়া হয়েছে তাঁর Without End: New and Selected Poems (২০০২), Eternal Enemies: Poems (২০০৮), এবং Unseen Hand: Poems (২০১১) বই থেকে। জাগাজিউস্কি র কবিতার অধিকাংশ ইংরিজি অনুবাদই ক্লেয়ার কাভানা-র করা। কিছু কবিতার অনুবাদ করেছেন রেনাতা গোরচিনস্কি।


 

অনুবাদকের কথা

যেকোনো অনুবাদই এক দুরূহ প্রয়াস। আর কবিতার ক্ষেত্রে, যথার্থ ও ত্রুটিহীন অনুবাদ, একরকম সোনার পাথরবাটিই। স্বনামধন্য মার্কিন দার্শনিক উইলার্ড ভ্যান অর্ম্যান কোয়াইনের মত-অনুযায়ী, এক ভাষা থেকে অন্য-ভাষায় অনুবাদ, কিংবা এক সংস্কৃতি থেকে অন্য সংস্কৃতিতে, মূলগতভাবে এক অসম্ভাব্য প্রকল্প। কবিতার অনুবাদ করতে বসলে, তাঁর এই মতের সারবত্তা হাড়ে-হাড়ে (না কি অক্ষরে অক্ষরে?) টের পাওয়া যায়। ভারতীয় নন্দনতাত্ত্বিকরা বলতেন, কাব্যরস তখনই সৃষ্টি হয়, যখন কবিতায় ব্যবহৃত শব্দের ‘অভিধা’ বা আভিধানিক অর্থের চেয়ে, তার ‘লক্ষণা’ বা দ্যোতিত অর্থই প্রধান হয়ে ওঠে। এক ভাষা থেকে অন্য ভাষায় রূপান্তরের সময়ে, শব্দের আক্ষরিক, আভিধানিক অর্থটি যদি-বা সফলভাবে অনুবাদ করা যায়, তার দ্যোতনা বা ব্যঞ্জনার অনুবাদ কীভাবে, ও কতটুকু, করা সম্ভব? অনেকক্ষেত্রেই, একটা শব্দের ব্যঞ্জনা, এবং তার অভিঘাত, সেই ভাষাগোষ্ঠীর মানুষের ইতিহাস, ভূগোল ও সংস্কৃতির দ্বারা নির্ণীত। ধরা যাক, ‘সোয়ালো’ এবং ‘থ্রাশ’-নামক পাখিদুটি, কিংবা ‘সেলার’ (cellar), কিংবা ‘ওয়ালনাট’ গাছ, অথবা ‘ব্লিজার্ড’—এগুলোর ব্যঞ্জনা একজন ইয়োরোপীয় পাঠকের চেতনায় যেভাবে ধরা দেবে, অবচেতনের ভাঁড়ার হাঁটকে উসকে দেবে যেসব গূঢ় অনুষঙ্গ, এদের বাংলা অনুবাদ কি একজন বাঙালী পাঠককে ঠিক সেইভাবে স্পর্শ করতে পারবে? আবার, দ্যোতিত অর্থের ওপর মাত্রাতিরিক্ত গুরুত্ব দিতে গেলে, অনুবাদকের বিরুদ্ধে, মূলের প্রতি বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ ওঠাও অস্বাভাবিক নয়। অনুবাদক, অতএব, উভয়-সংকটে!

কিন্তু, এহ বাহ্য। অনুবাদের দার্শনিক প্রস্থানভূমি নিয়ে আলোচনা আমার উদ্দেশ্য নয়। আর, সে-যোগ্যতাও আমার নেই। আমি শুধু পাঠককে মনে করিয়ে দিতে চাইছি, কবিতা-অনুবাদের কাজটি, আদতে, বেশ গোলমেলে। অর্থাৎ, সাফাই গেয়ে রাখছি আগেভাগেই, পাছে এই অনুবাদ পাঠকের মনঃপূত না হয়! এই প্রসঙ্গে, আরো একটি স্বীকারোক্তির প্রয়োজন। আদাম জাগাজিউস্কি  লেখেন পোলিশ ভাষায়। সে-ভাষা আমার জানা নেই। ফলে, আমি এই অনুবাদগুলি করেছি আদামের কবিতার ইংরিজি অনুবাদ থেকে। সুতরাং, এগুলি আসলে অনুবাদের অনুবাদ। এই পর্যন্ত পড়ে, বিশুদ্ধতাবাদী পাঠক ভুরু কোঁচকাতেই পারেন, এবং তাঁর তিরস্কার আমি মাথা পেতে নেব। আমার তরফে শুধু এটুকুই বলার যে, আদাম জাগাজিউস্কি র মতো, বর্তমান সময়ের একজন প্রধান কবির সঙ্গে, বাঙালী পাঠকের পরিচয় করিয়ে দেওয়াটা, আমার কাছে খুব জরুরি ও অপরিহার্য বলেই মনে হয়েছিল। যেহেতু বাংলায়, অনুবাদের ধারাটি তেমন পরিপুষ্ট নয়, যেমনটা বিদেশে হয়ে থাকে, তাই, কবে মূল পোলিশ-ভাষা থেকে অনুবাদ হবে, আদৌ কেউ সে-কাজ করবেন কি না, এমন সাত-পাঁচ ভেবে কালক্ষেপ করা উচিত বোধ করিনি।

অনুবাদের জটিলতা ও অসম্ভাব্যতার কথা যেমন বললাম, তেমনি এ-কথাও বলা দরকার যে, মাঝেমধ্যে, একেকজন লেখকের লেখা পড়ামাত্র, ভেতরে-ভেতরে, একটা গভীর আত্মীয়তার বোধ তৈরি হয়। এসব ক্ষেত্রে, অনুবাদের কাজটা, কিছুটা হলেও, সহজসাধ্য হয়ে ওঠে। যেমনটা হয়েছিল আমার, আদামের কবিতা পড়ে। তাঁর কবিতায় যেভাবে জড়িয়ে থাকে একটা আলগা কাহিনীসূত্র, বা ন্যারেটিভ; যেভাবে তিনি দৈনন্দিন ঘটনার শাদামাটা বর্ণনা দেওয়ার ছলে, পাঠককে আচমকা এনে দাঁড় করিয়ে দেন অতলান্ত শূন্যতার সামনে, অথবা, মস্ত একটা আকাশের চাঁদোয়ার তলায়; যেভাবে, সামান্য ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাও, শুধুমাত্র উপস্থাপনার মুনশিয়ানায়, গূঢ় ঐতিহাসিক তাৎপর্যে মণ্ডিত হয়; অথবা, সমস্ত রাজনৈতিক-ঐতিহাসিক ডামাডোল অতিক্রম করে, যেভাবে এক চিরন্তন আলোর অনুসন্ধানই তাঁর উপজীব্য হয়ে ওঠে; এবং সর্বোপরি, তাঁর সোজা-সাপটা ভাষা, ও ভানহীন সারল্য—এ-সবই আমার খুব চেনা ও আপন বলে মনে হয়েছিল। মনে হয়েছিল, যেন এই কবিতাগুলোই আমি লিখতে চেয়েছিলাম, আজীবন। পারিনি, সে আমার অপূর্ণতা। এই অনুবাদের মধ্যে দিয়ে, হয়তো সেই অসম্পূর্ণতাটুকুই অতিক্রম করতে চাইলাম।

সবশেষে, অগ্রজপ্রতিম কবি শুভ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি গভীর ও নিঃশর্ত কৃতজ্ঞতা না-জানালে, অমার্জনীয় অপরাধের ভাগী হতে হবে। কেননা, জাগাজিউস্কি -র কবিতার সঙ্গে তিনিই সর্বপ্রথম আমার পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। এবং, এই অনুবাদের পরিকল্পনাটিও আদতে তাঁরই মস্তিষ্কপ্রসূত। তাঁর নিরলস তাগাদা, উৎসাহ ও সমর্থন ছাড়া, এ-অনুবাদ কখনই সম্ভব হত না।

শৌভ চট্টোপাধ্যায়

মার্চ, ২০১৯


 

যাত্রাপথে

 

১. মালপত্র ছাড়া

মালপত্র ছাড়া বেড়াতে বেরোলে, ট্রেনের

শক্ত কাঠের বেঞ্চিতে শুয়ে ঘুমোতে হয়,

ভুলে যেতে হয় নিজের দেশের কথা,

ছোট-ছোট অচেনা স্টেশন থেকে বেরিয়ে আসতে হয়,

যখন দূরে একটা ছাই-রঙা আকাশ উঠছে

আর মাছ-ধরার নৌকোগুলো চলেছে সমুদ্রের দিকে।

 

২. বেলজিয়ামে

বেলজিয়ামে তখন ঝিরঝির করে বৃষ্টি পড়ছিল

আর পাহাড়ের মধ্যে দিয়ে এঁকেবেঁকে বয়ে যাচ্ছিল নদী।

আমি ভাবলাম, কী ভয়ানক অসম্পূর্ণ আমি।

ঘাসে-ঢাকা মাঠে, গাছগুলো চুপ করে বসেছিল

যেন সবুজ আলখাল্লা-পরা একদল যাজক।

লতাপাতার মধ্যে, লুকিয়ে ছিল অক্টোবর-মাস।

না, মাদাম, আমি বলেছিলাম,

এ-কামরায় কথা বলা নিষেধ।

 

৩. রাস্তার ওপর চক্কর দিচ্ছে একটি বাজপাখি

বেজায় হতাশ হবে, যদি সে ছোঁ মারে

লোহার পাতের দিকে, তেলের ট্যাঙ্কে,

লারেলাপ্পা গানের ক্যাসেটে,

আমাদের সঙ্কীর্ণ হৃদয়ের ওপর।

 

৪. মঁ ব্লঁ 

দূর থেকে ঝলমল করে উঠছে, শাদা ও সাবধানী

যেন ছায়ার জন্য অপেক্ষা করছে একটি লন্ঠন।

  

৫. সিজেস্তা

সমতল ঘাসজমির ওপর এক মস্ত মন্দির—

একটি বুনো পশুর

আকাশের দিকে মেলে-ধরা শরীর।

 

৬. গ্রীষ্ম

অমন বিরাট, জয়দৃপ্ত গ্রীষ্মকাল—

আর আমাদের ছোট্ট গাড়িটিকে দেখে মনে হল

সে যেন হারিয়ে গেছে, ভেরদাঁ যাবার রাস্তায়।

 

৭. বাইটমের স্টেশন

 মাটির তলার সুড়ঙ্গে

গজিয়ে ওঠে আধপোড়া সিগারেট,

ডেইজি নয়।

একাকীত্বের গন্ধে ভারি হয়ে থাকে হাওয়া।

 

৮.  অবসরপ্রাপ্তদের ফিল্ড ট্রিপ

সবে তারা হাঁটতে শিখছে

ডাঙায়।

 

৯. সি-গাল

চিরকাল কোথাও যায় না,

চিরকাল শুধু অপেক্ষাই করে।

মাছ-ধরার এই বন্দরে

কেবল সি-গালরাই বকবক করছে।

 

১০. তাউরমিনা-র থিয়েটার

তাউরমিনা-র থিয়েটার থেকে তুমি দেখতে পাবে

এটনার চুড়োয় জমে-থাকা বরফ

আর ঝিকমিক করছে সমুদ্র।

এদের মধ্যে, কে বড় অভিনেতা?

 

১১. একটি কালো বিড়াল

একটি কালো বিড়াল বেরিয়ে এল আমাদের স্বাগত জানাতে

যেন বলতে চাইল, ওইসব প্রাচীন রোমক গির্জা ছেড়ে,

এবার আমাকে দ্যাখো।

আমি বেঁচে আছি।

 

১২. একটি রোমক গির্জা 

উপত্যকার একেবারে নীচে

বিশ্রাম নিচ্ছে একটি রোমক গির্জা:

এই পিপের মধ্যে, রাখা আছে মদ।

 

১৩. আলো

পুরোন বাড়ির গায়ে আলো,

জুন-মাস।

হেঁটে যাচ্ছ যারা, চোখ খোলো।

 

১৪. ভোরবেলা

ভোরবেলার পৃথিবী বড় বস্তুময়—

এবং আত্মা নশ্বর।

 

গাড়ির মধ্যে গান-বাজনা

বাড়িতে, কিংবা গাড়ির মধ্যে

এমনকী, হাঁটতে-হাঁটতে

তোমার সঙ্গে যেসব গান-বাজনা শুনেছি

তাদের সুর, পুরোপুরি, বিশুদ্ধ ছিল না

যেমনটা না কি পিয়ানো-টিউনারদের পছন্দ—

বরং, তাতে মিশে ছিল আরো নানান স্বর

ভয় আর যন্ত্রণায় কাতর,

তাছাড়া সেই বাজনা

শুধু তো বাজনা ছিল না, বরং

তা ছিল আমাদের বেঁচে-থাকা,

আমাদের মৃত্যু।

 

আউশভিৎসের সোয়ালো

ব্যারাকের স্তব্ধ শান্তির মধ্যে,

গ্রীষ্মকালীন রোববারের নীরবতায়,

সোয়ালোদের তীক্ষ্ণ চিৎকার।

 

তাহলে কি, শুধু এটুকুই অবশিষ্ট আছে

মানুষের ভাষার?

 

তুষার-ঝড়

আমরা গান শুনছিলাম—

একটু-আধটু বাখ, বিমর্ষ শ্যুবার্ট।

খানিকক্ষণ, আমরা মন দিয়ে শুনলাম নীরবতা।

বাইরে গর্জন করছে তুষার-ঝড়,

হাওয়া তার নীল মুখ

ঠেসে ধরছে দেয়ালের গায়ে।

কিছু মৃত মানুষ, স্লেজে চেপে, হইহই করে চলে গেল

আমাদের জানলায়, তাক করে

ছুঁড়ে মারল বরফের গোলা।

 

মিউশের কবিতা পড়ে

আপনার কবিতাগুলো আরেকবার পড়লাম,

মনে হল, এসব কবিতা এক সবজান্তা বড়লোকের লেখা,

চালচুলোহীন কোনো ভিখিরির লেখা,

যে এখন দেশছাড়া, সঙ্গীহীন।

 

আপনি বরাবর চেয়েছেন

কবিতাকে অতিক্রম করতে, তার চেয়ে অনেক উঁচুতে উঠতে,

আবার নামতে চেয়েছেন নীচে, যেখান থেকে শুরু হয়

আমাদের শাদামাটা, লাজুক দুনিয়া।

 

মাঝেমধ্যে, আপনার বলার কায়দা

ক্ষণিকের জন্যে হলেও আমাদের পালটে দেয়,

আমরা বিশ্বাস করতে আরম্ভ করি—সত্যিই—

কী পবিত্র প্রত্যেকটি দিন,

 

কবিতা—ঠিক কীভাবে বলব?—

জীবনকে আরো ভরাট,

সফল ও অভিমানী করে তোলে, তার নিখুঁত নির্মাণ

বিব্রত করে না আর।

 

কিন্তু সন্ধে হয়ে আসে,

আর আমি আমার হাতের বইখানা পাশে নামিয়ে রাখি,

আবার শুরু হয় শহরের পাতি হইহল্লা—

কেউ কেশে ওঠে, কেউ কেউ কাঁদে আর গালাগালি দেয়।

 

বুড়ো মার্ক্স

আর ভাবতে পারছেন না তিনি।

ভীষণ স্যাঁতসেতে এই লণ্ডন শহর,

সমস্ত ঘরেই কেউ না কেউ কাশছে।

শীতকাল তাঁর মোটে পছন্দ নয়।

পুরোন পান্ডুলিপিগুলো তিনি নতুন করে লেখেন

বারবার, কিছুতে উৎসাহ পান না।

হলুদ পাতাগুলো

ক্ষয়কাশের মতো ভঙ্গুর।

 

কেন এই জীবন, অমন জেদ নিয়ে

ধ্বংসের দিকে ছুটে যায়?

অথচ স্বপ্নের মধ্যে, বসন্ত ফিরে-ফিরে আসে,

ফিরে আসে তুষার, যার ভাষা

সম্পূর্ণ অচেনা বলে মনে হয়।

এই গোটা ব্যবস্থাটার ভেতর

প্রেমের স্থান কোথায়?

যেখানে পাওয়া যায় নীল ফুল।

 

নৈরাজ্যবাদীদের তিনি ঘৃণা করেন,

আদর্শবাদীদের দেখলে বিরক্ত হন।

রাশিয়া থেকে রিপোর্ট পান,

রাজ্যের খুঁটিনাটিসমেত।

ফরাসীরা আরো ধনী হয়ে উঠছে।

পোল্যান্ড তো এজমালি, টুঁ-শব্দ করে না।

আমেরিকার বাড়বাড়ন্তের শেষ নেই।

চারিদিকে রক্ত,

ওয়ালপেপারটা বোধহয় এবার পালটাতে হবে।

তাঁর সন্দেহ হয়

বেচারা মানবজাতি বুঝি

পৃথিবীর ওপর দিয়ে

এভাবেই পা-ঘষটে হেঁটে যাবে

যেরকম পাড়ার পাগল

ঘুষি ছোঁড়ে

অদৃশ্য ঈশ্বরের দিকে।

 

ছোটোখাটো জিনিশ

আমার সমসাময়িক যারা, এইসব ছোটোখাটো জিনিশই তাদের পছন্দ,

সমুদ্রের কথা ভুলে-যাওয়া শুকনো তারামাছ,

থেমে-যাওয়া বিষণ্ণ ঘড়ি, বিলুপ্ত শহর থেকে পাঠানো

দুষ্পাঠ্য অক্ষরে কালো হয়ে আসা যত পোস্টকার্ড,

যাদের ভেতর তারা খুঁজে নেয়

“আকাঙ্খা”, “অসুখ”, কিংবা “সমাপ্তি”-র মতো শব্দ।

সুপ্ত আগ্নেয়গিরি দেখে তাদের বিস্ময়ের অন্ত নেই।

তারা নিস্পৃহ, আলোর বিষয়ে।

 

কবিতার সপক্ষে, ইত্যাদি

আজ্ঞে হ্যাঁ, আমি সওয়াল করি কবিতা, মহৎ শৈলী, ইত্যাদির সপক্ষে,

কিন্তু সেইসঙ্গে, সওয়াল করি কোনো ছোট্টো শহরে গ্রীষ্মের সন্ধ্যাটির সপক্ষেও,

যেখানে আলতো হাওয়ায় দুলে ওঠে বাগান, আর বিড়াল শান্তভাবে বসে থাকে

চৌকাঠের ওপর, চীনা দার্শনিকদের মতো।

 

শীতকালের ইয়োসেফ  স্ট্রিট 

য়োয়াখিম রুসেকের জন্য

শীতকালে, অন্ধকার হয়ে আছে ইয়োসেফ স্ট্রিট,

জনাকয়েক তীর্থযাত্রী ভিজে বরফের মধ্যে নাকানিচোবানি খাচ্ছে

জানে না কোথায় যাচ্ছে, কোন তারাটির দিকে,

হয়তো তারা এক্ষুণি থমকে দাঁড়াবে

বাগানের সেই মালির মতো, যে তার

কোদালের হাতলে ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, স্বপ্ন দেখে,

বুঝতে পারে না, চারিদিকে হঠাৎ

যুদ্ধ বেধে গেছে,

কিংবা ফুল ফুটেছে, হাইড্রাঞ্জিয়ার।

 

বাস্তুভিটে

অচেনা লোকের মতো তুমি এলে, এইখানে,

অথচ, এ তোমার বাস্তুভিটে।

কারেন্ট, আপেল আর চেরিগাছগুলো তোমাকে চেনে না।

একটি মহীরূহ, প্রগাঢ় শান্তিতে

বড় করছে তার ওয়ালনাট-শাবকদের,

আর সূর্য, ক্লাস ওয়ানের ভীতু বাচ্চার মতো,

ছায়াগুলোকে রঙে ভরিয়ে তুলতে ব্যস্ত।

খাবার ঘর ভান করছে, যেন সে এক সমাধিমন্দির,

চেনা প্রতিধ্বনিগুলো ফিরিয়ে দেবে না কিছুতেই—

পুরোন কথাবার্তা, সংলাপের লেশমাত্র পড়ে নেই আর।

একদিন, যেখানে তোমার জীবন সন্দেহাতীতভাবে

শুরু হয়েছিল, সেখানে তোতলাচ্ছে অন্য কার টেলিভিশন

কিন্তু মাটির তলার ওই ভাঁড়ারঘরটি

বহুকালের অন্ধকার জমিয়ে রেখেছে—

তোমার চলে যাওয়ার দিন থেকে, প্রত্যেকটি রাত

জট পাকিয়ে রয়েছে বাতিল সোয়েটারের পশমের মতো

যার মধ্যে বাসা করেছে বনবিড়াল।

অচেনা লোকের মতো তুমি এলে, এইখানে,

অথচ, এ তোমার বাস্তুভিটে।

 

বোবা শহর

মনে করো, এক অন্ধকার শহর।

যে কিচ্ছু বোঝে না। স্তব্ধতার রাজত্ব সেখানে।

আর সেই নৈঃশব্দ্যের ভেতর, বাদুড়ের ঝাঁক

আইয়োনিয়ান দার্শনিকদের মতো, মাঝ-শূন্যে

আচমকা, অদ্ভুত সব সিদ্ধান্ত নেয়,

আর আমরা সম্ভ্রমে হতবাক হই।

বোবা শহর। মেঘের চাদরে ঢাকা।

কিচ্ছু জানা যায়নি এখনও। কিচ্ছু না।

ধারালো বিদ্যুতে দু’ফাঁক হয়ে যায় রাত।

যাজক, ক্যাথলিক আর অর্থোডক্স, সকলেই

শশব্যস্তে ছুটে যায়, যে যার জানলা

ঘন-নীল মখমলে ঢেকে দেবে বলে,

কিন্তু আমরা বেরিয়ে পড়ি, শুনতে চাই

বৃষ্টির ঝমঝম আওয়াজ

আর ভোরের। ভোর সব সময়েই আমাদের

কিছু না কিছু বলে, সর্বদাই।

 

বিমানের মধ্যে আত্ম-প্রতিকৃতি

ইকনমি ক্লাসে

কতকটা ভ্রূণের মতো গুটিসুটি মেরে,

অপ্রশস্ত, সরু সীটে ঠাসাঠাসি হয়ে,

আমি মনে করার চেষ্টা করি

সদ্য-কাটা তাজা খড়ের গন্ধ

অগাস্ট-মাসে যখন পাহাড়ের ঢাল বেয়ে

একের পর এক কাঠের ঠেলাগাড়ি

কাঁচা-রাস্তা ধরে গড়িয়ে নামে

আর চালক চেঁচিয়ে ওঠে

যেমনটা হামেশাই করে থাকে মানুষ, ভয় পেলে

—ইলিয়াডেও তারা ঠিক ওইভাবেই চেঁচিয়ে উঠেছিল

আর তারপর, কখনও থামেনি আর,

যখন ক্রুসেড হয়েছিল, তখনও না,

কিংবা পরে, আরো পরে, আমাদের এই হাল-আমলেও,

যখন শোনার কোনো লোক নেই।

 

আমি ক্লান্ত, যা ভাবা যায় না

আমি তা-ই ভাবতে চেষ্টা করি—ভাবি, জঙ্গলের ভেতর

কীভাবে ব্যাপ্ত হয়ে আছে নৈঃশব্দ্য, পাখিদের ঘুমে,

ভাবি, গ্রীষ্মের আসন্ন অবসানের কথা।

দু’হাতে চেপে ধরি নিজের মাথা

যেন তাকে অনিবার্য ধ্বংস থেকে বাঁচাতে চাইছি।

বাইরে থেকে দেখে, আমাকে নির্ঘাত

চলচ্ছক্তিহীন, মৃতপ্রায় বলে মনে হয়,

মনে হয় হাল-ছেড়ে-দেওয়া মানুষ, নিছক করুণার পাত্র।

অথচ, ব্যাপারটা মোটেই সেরকম নয়—আমি স্বাধীন

এমনকী, হয়তো সুখীও।

হ্যাঁ, আমি আমার ভারি মাথা

দু’হাত দিয়ে চেপে ধরে আছি,

কিন্তু তার ভেতর, একটা কবিতার জন্ম হচ্ছে।

 

লেওনার্দো

তিনি এখন ফরাসীদেশে থাকেন, তিনি এখন

আগের চেয়ে অনেক শান্ত এবং দুর্বল।

মুকুটের মণি। স্বয়ং রাজার

বন্ধু তিনি, অনুগ্রহভাজন।

লোয়্যা নদীর জল, আস্তে আস্তে, গড়িয়ে যায়।

তিনি ভাবেন সেইসব

অসমাপ্ত প্রকল্পের কথা।

তাঁর ডানহাত, অর্ধেক পক্ষাঘাতগ্রস্ত,

ইতিমধ্যেই বিদায় নিয়েছে।

বাঁ-হাতটিও যেন ছুটি পেলেই বাঁচে।

এবং তাঁর হৃদয়, আর সমস্ত শরীর।

কেবল আলোর এক দ্বীপপুঞ্জ

তাঁকে পাহারা দিচ্ছে।

 

চেষ্টা করো এই বিকলাঙ্গ দুনিয়ার প্রশস্তি গাইতে

চেষ্টা করো এই বিকলাঙ্গ দুনিয়ার প্রশস্তি গাইতে।

মনে করো, জুন মাসের মস্ত লম্বা সেইসব দিন,

আর বুনো স্ট্রবেরি, আর দু-একফোঁটা গোলাপি মদ।

বিছুটি ও কাঁটাঝোপ,নিয়মমাফিক ,

ঢেকে দেয় নির্বাসিত মানুষের ফেলে-যাওয়া বাড়িঘর।

এই বিকলাঙ্গ দুনিয়ার প্রশস্তি তোমাকে গাইতেই হবে।

তুমি তাকিয়ে আছ ওই বিলাসবহুল প্রমোদতরণী আর জাহাজগুলোর দিকে;

ওদের মধ্যে, একজনের সামনে রয়েছে লম্বা এক সফরের হাতছানি,

আর অন্যদের জন্য অপেক্ষা করছে বিস্মৃতির নোনতা স্বাদ।

তুমি দেখেছ, দেশছাড়া মানুষ আসলে কোথাও যাচ্ছে না,

তুমি শুনেছ, মহানন্দে গান গাইছে জল্লাদ।

তোমার উচিত এই বিকলাঙ্গ দুনিয়ার প্রশস্তি গাওয়া।

সেইসব মুহূর্তগুলি মনে করো, যখন আমরা একটা শাদা ঘরে

একসঙ্গে ছিলাম, আর হাওয়ায় পর্দাগুলো কেঁপে উঠেছিল।

মনে মনে ফিরে যাও সেই কনসার্টে, যেখানে গমগম করছে সুর।

হেমন্তের বাগানে তুমি বাদাম কুড়িয়েছিলে

আর শুকনো পাতার ঘূর্ণিতে ঢেকে গিয়েছিল পৃথিবীর ক্ষত।

প্রশস্তি গাও এই বিকলাঙ্গ পৃথিবীর,

আর পাখির হারিয়ে ফেলা ওই ধূসর পালকের,

আর ওই নরম আলোর, যা সরে যেতে থাকে, আর নিভে যায়,

আর বারবার ফিরে-ফিরে আসে।

 

শিক্ষানবিশদের জন্যে অধ্যাত্মবাদ

মৃদু ও শান্ত এই দিন, পর্যাপ্ত আলোর দিন।

ক্যাফের বারান্দায়, জার্মান লোকটির কোলে

উপুড় করে রাখা একটা ছোট বই।

শুধু তার শিরোনামটুকু চোখে পড়েঃ

শিক্ষানবিশদের জন্য অধ্যাত্মবাদ

হঠাৎ বুঝতে পারি, এই সোয়ালোরা

যারা তীক্ষ্ণ শিস্‌ দিতে-দিতে মন্টেপুলচিয়ানোর রাস্তায়

পাহারাদারি করে বেড়াচ্ছে,

আর পূবদেশ থেকে, তথাকথিত মধ্য-ইয়োরোপ থেকে আসা

লাজুক ভ্রমণকারীদের নীচু-গলার বার্তালাপ,

আর ধানের ক্ষেতে সন্ন্যাসিনীদের মতো

শাদা সারসদের ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা—কাল? না কি তারও আগে?—

আর রোজ সন্ধ্যা এসে, নিয়মমাফিক

যেভাবে ধীরে-ধীরে মুছে দেয় মধ্যযুগীয় বাড়িগুলোর অবয়ব,

আর অনুচ্চ পাহাড়ের গায়ে, হাওয়ায় ও সূর্যের তাপে

বিপর্যস্ত অলিভ গাছেরা,

আর সেই অচেনা রাজকুমারীর মাথা,

ল্যুভ-এর জাদুঘরে যা দেখে মুগ্ধ হয়েছিলাম,

আর পরাগ-মাখানো প্রজাপতির ডানার মতো

রঙিন কাচের জানলা,

আর বড়-রাস্তার ধারে নিজের বক্তৃতা ঝালিয়ে নেওয়া

সেই ছোট্ট নাইটিঙ্গেল,

আর যেকোন ভ্রমণ, যেকোন ধরণের যাত্রাই,

আসলে শিক্ষানবিশদের জন্যে অধ্যাত্মবাদ ছাড়া কিছু নয়,

একটি প্রাথমিক পাঠ্যক্রম, একটি ভূমিকা, যার

পরীক্ষা মুলতুবি আছে।

 

এই প্রাঞ্জল মুহূর্তটিকে মিলিয়ে যেতে দিও না

এই প্রাঞ্জল মুহূর্তটিকে মিলিয়ে যেতে দিও না

যেন এই ভাবনার বিভাটুকু নৈঃশব্দ্যে স্থায়ী হয়ে থাকে

যদিও খাতার পাতা ফুরিয়ে এসেছে আর শিখাটিও কম্পমান

আমরা এখনো আমাদের উচ্চতা স্পর্শ করতে পারিনি

আক্কেল দাঁতের মতো ধীরে ধীরে বেড়ে উঠছে জ্ঞান

একটি শাদা দরজার গায়ে, অনেক ওপরে,

মানুষের প্রকৃত উচ্চতা দাগানো রয়েছে

বহুদূরে, বেড়ালের মতো কুণ্ডলী পাকিয়ে আছে

ট্রাম্পেটের ফুর্তিমাখা আওয়াজ ও একটি গানের সুর

যা-কিছু অতিক্রান্ত, তার সবটাই শূন্যতা নয়

এখনো আগুনের পেটে কয়লা ঠুসে দিচ্ছে এক স্টোকার

এই প্রাঞ্জল মুহূর্তটিকে মিলিয়ে যেতে দিও না

কঠিন শুকনো কোনো জিনিশের ওপর

সত্যিটা খোদাই করে রাখো।

 

পাদটীকা:

সিজেস্তা (Segesta) উত্তর সিসিলির একটি জনপদ। ৪২০ খ্রীষ্টপূর্বাব্দে নির্মিত, ডোরিক-শৈলীর গ্রীক মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে এখানে।

ভেরদাঁ (Verdun) উত্তরপূর্ব ফ্রান্সের একটি জনপদ। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়ে, এখানে, ফরাসী ও জার্মান সেনাবাহিনীর মধ্যে ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী লড়াই হয়েছিল।

বাইটম (Bytom) দক্ষিণ পোল্যান্ডের সাইলেসিয়া অঞ্চলে অবস্থিত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে, এখান থেকেই প্রথম ইহুদিদের চালান করা হয়েছিল আউশভিৎস-বির্কেনাউ ক্যাম্পে।

সিসিলির পূর্ব-উপকূলে, অনুচ্চ পাহাড়ের ওপর অবস্থিত একটি শহর। পাহাড়ের ওপর প্রাচীন গ্রীক থিয়েটারের ধ্বংসাবশেষ এখানকার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।

চেশোয়াফ মিউশ (Czeslaw Milosz, ১৯১১-২০০৪) বিখ্যাত পোলিশ কবি, গদ্যকার, অনুবাদক ও কূটনীতিক।

মন্টেপুলচিয়ানো (Montepulciano) ইতালির টাস্কানি অঞ্চলের সিয়েনা-প্রদেশে অবস্থিত একটি শহর। রেনেসাঁ-যুগের অনুপম স্থাপত্যের জন্যে বিখ্যাত পর্যটনকেন্দ্র।

ক্রোয়েশীয়-ইতালীয় ভাস্কর ফ্রাঞ্চেস্কো লাউরানা (১৪৩০-১৫০২ খ্রীষ্টাব্দ) নির্মিত শ্বেতপাথরের আবক্ষ-মূর্তি। মূর্তিটি কার, বা কার নির্দেশে বানানো হয়েছিল, তা জানা যায় না।

 

 

শৌভ চট্টোপাধ্যায়ের (১৯৮৩—) জন্ম ও বেড়ে ওঠা হাওড়ার শিবপুরে। পড়াশোনার সুবাদে কিছুদিন লাখনৌ-তে বসবাস। এবং, বর্তমানে, কর্মসূত্রে দিল্লির বাসিন্দা। প্রায় দেড়-দশক যাবৎ কবিতা লিখছেন। কবিতা প্রকাশিত হয়েছে অনুবর্তন, কৃত্তিবাস, কৌরব, দাহপত্র, নতুন কবিতা, শুধু বিঘে দুই, যাপনচিত্র ইত্যাদি নানান পত্রপত্রিকায়। এ-যাবৎ প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা চার—‘অনন্ত-র ঘরবাড়ি, হাতিঘোড়া ও অন্যান্য’ (২০০৯, ডি কোং), ‘মুনিয়া ও অন্যান্য ব্যূহ’ (২০১৩, নতুন কবিতা), ‘মায়াকানন’ (২০১৬, সৃষ্টিসুখ), এবং ‘নিঃশব্দে অতিক্রম করি’ (২০১৯, শুধু বিঘে দুই)। যুক্ত ছিলেন ‘অবসরডাঙা’ ও ‘ব্রজী’-নামক দুটি পত্রিকার সঙ্গেও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *