গুচ্ছ কবিতা

ইন্দ্রনীল ঘোষ


দীর্ঘই

মীড় মাহিয়ার রেটিনা-কাটা ধান
তার অঘ্রাণ
এরোপ্লেন বানাতে বাধ্য করলো
যখন সব ক’টা কাগজে যাত্রী উড়ছে
তোমরা কবিতাকে চেনো
ওই যে প্রাচীন ফুসফুসের লম্বা ছায়া পড়েছিলো
তোমরা সেই দীর্ঘই-এর ভাঁজ করা বুদ্ধকে চেনো
তার আঁখির হোঁচট হচ্ছে পিলসুজ

জ্বালিয়ে দাও জ্বালিয়ে দাও
যা কিছু দেখলাম এ’ জীবনে
পুতুল
পুতুলে বৃষ্টি হচ্ছে
তার মাটির চোখে পিঁপড়ে
পৃথিবীর ইতিহাসে এই একটা মাত্র উঠোন…
ফাঁকা বিসমিল্লায় একখানা টিউবওয়েল লাগানো
এখানেই জলের লাইন –
সানাইয়ের ছবিতে
তোমার অবিকল হাত জল ভরছে

সেই প্রথম দিনে কোনো ভাষা ছিল না
তার বদলে
আমরা পুতুল ভিজতে দিয়েছিলাম বৃষ্টিতে

 

এক পর্নোগ্রাফির খসড়া

পর্ন বানানোর জন্য প্রাথমিকভাবে যা যা দরকার – একটি উলঙ্গ মানুষ, একখানা ফাঁকা ঘর, আলো আর কিছু সরঞ্জাম। প্রথম দৃশ্যে লোকটা এগিয়ে যাবে। দ্বিতীয় দৃশ্যে হঠাৎ থেমে ভাববে – খামোখাই, এই এগিয়ে আসার কারণ। শেষ দৃশ্যে, ভাবতে ভাবতে লোকটা বুঝতেও পারবে না কখন ডুবে গেছে ঘরের মধ্যে। তাকে আর আলাদা ক’রে চিনতে পারছে না নতুন পর্নওয়ালারা। তারই ওপর দাঁড়িয়ে লিঙ্গ হাতে নতুন মানুষের দল।

শুটিং-এর জন্য একখানা সন্ধে বাছলাম। একটা ঠিকঠাক সন্ধে – যখন আঁচড়ের রঙ নীল, দূরত্বের আওয়াজ তীক্ষ্ণ। যখন গোলপোস্টের সামনে ফাঁকা বল হাতে বাচ্চাটা বেড়েই চলেছে বেড়েই চলেছে। হাজার হাজার বাচ্চা টুকরো হয়ে লাখ লাখ হলো। অভিনেতার সারা গায়ে ক্ষুরের দাগগুলো স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
ক্যামেরা বলল – লোকটা একা কেন?
আমি বললাম – ওর পার্টনার জল আনতে গেছে।
– তবে ও সেক্স করবে কার সঙ্গে?
– দেখছ না, ওর গায়ের ওই দাগগুলোয় জল জ’মে আছে। কাল বালতি ছলকে পড়েছিল ওর সঙ্গীর হাত থেকে।
ক্যামেরা বলল – আমি তবে চোখেমুখে একটু জল দিয়ে আসি?

দূরে, বিদেশী পাহাড় থেকে নাকি মৃত্যু গড়িয়ে আসছে। সেই দেখতে ভিড় জমেছে আজ। সকালে খবরে শুনছিলাম। এমন দিনে বড় নিরালার অভাব। শুটিং-এর সময় বন্ধ করব, তেমন জানলাই বা কোথায়! আমাদের অভিনেতা শেষবারের মতো লিঙ্গ প’রে তৈরি হয়ে নিচ্ছে। আমরা সবাই তৈরি হচ্ছি একটা পর্ন শুটের জন্য। মৃত্যু দেখতে আসা মানুষেরা উঁকি মারছে লিঙ্গের দিকে। জানতে চাইছে, তার উচ্চতা ও বংশপরিচয়।
– এটা এক সাম্রাজ্যের দালানে ছিল, জানেন। শুনেছিলাম, সম্রাট নানাবিধ লিঙ্গ জমাতেন। ঠিক যেমন চিঠি পাওয়া মাত্রই ডাকটিকিট খুলে রাখে বুবুন। ওনার সংগ্রহে বেশ কিছু স্তন ছিল, কিছু যোনি আর কয়েকটা প্রজাপতি।

লিঙ্গ দেখতে আসা মানুষেরা এবার উঁকি মারে মৃত্যুর দিকে – দূরে, বিদেশী পাহাড়ে।

এই ফাঁকে আমরা সরঞ্জাম গুছিয়ে নিই। আলোগুলো গুছিয়ে নিই। অসুখ থেকে একখানা আলো এসেছে, শীতের রুটিতে। আর তাতে ক’রে কুয়াশা তৈরি হচ্ছে সিনেমায়।

সবাই এখন শুটিং-এর জন্য প্রস্তুত।

শুধু খেলা ভোলা সম্রাট ঘুমিয়ে পড়েছে। ছড়িয়ে আছে খেলার লিঙ্গ, খেলার স্তন… যোনি…
চিরকালের মতোই, সে’ ঘুম থেকে, ডাকটিকিট তুলে রাখল বুবুন।

 

ঘড়ি

মহুলকে জড়িয়ে আছে সুকান্ত
এই দুটো নামপদ, আমার চাই

কাঠুরিয়া টোনের বাড়ি
ঠুকরোচ্ছে পাখি
তার পালক নেমে আসছে সন্ধেতে

মহুলকে জড়িয়ে আছে সুকান্ত
এই দুটো নামপদ
আমি পৃথিবীকে দিয়ে যেতে চাই

 

বাগান

একটা গাছ পুঁতছিলাম…
এ’ সেই বিকেলের কথা
যেখানে মানুষ আসার আগেই তার ছায়া এসেছিল

সাবেকি ধাতুর জীবনে জল ছেটাচ্ছিলেন কনফুসিয়াস
সমস্ত মানুষই ধাতু
সমস্ত জীবনই
আমি শব্দ শুনছিলাম
জীবনের ঠোকাঠুকি

 

যুদ্ধ

ইদানীং সব হারমোনিতেই যুদ্ধ টের পাই
অথচ ভেবেছিলাম লড়াই শব্দটা আমি কবিতায় কোনোদিনও না।
যুদ্ধর বদলে তবে, যুদ্ধ-খুকি কেমন হয়?
একটা ফ্রক আর দুটো বিনুনিকে ভর ক’রে,
যদি মৃত্যু ছাদে আচার আনতে যায়…
বহুতল থেকে পড়ার স্বপ্নে আমার কিন্তু মজাই লাগত
প্রচণ্ড ক্যানভাস কেমন রঙের এক বিন্দু হয়ে যাচ্ছে
দ্রুত
এবং শ্লথ…

স্নায়ুতলে
এত মৃত মানুষের মাঝে,
কোনো গাছ আজও আসেনি —
খামোখাই, একটা গাছ পুঁতছিলাম…

 

নিরুদ্দেশের জন্য বিজ্ঞপ্তি

অসুখের ছায়াগুলো গাছের বিভ্রম হতো
সে গ্রামে অসুখ হতো খুব –
নীল একটু দুলিয়ে দিলেই হাসপাতাল…
তারপর সারি সারি রোগিদের ব্যক্তিগত ছুটি
একা একা পাহাড়ে ঘুরে বেড়ায়
একা একা টিফিন-কোটো খোলে

সব বন্ধু হতে হতেই কখন যে বিকেল হয়ে যায় –
যেন টিফিন খুললেই বেরিয়ে আসবে দক্ষিনের ঘর
যে ঘরে আমার পুরোনো জিন্স
পুরোনোকে তাপ দিচ্ছে তার মা
আর মা টপকাতে টপকাতে আমরা ক্লান্ত হয়ে উঠছি

আমরা ক্লান্ত হয়ে উঠে পড়ছি একটা বিকেলে
অনেক উঁচুর অসুখ চিৎকার করছে তার ছায়া
সে চিৎকারে কোনও শব্দ নেই
শুধু গাছ

আমাদের মাইল মাইল বেঁচে থাকার ওপর
শুধু পাখি বসে আছে

কাঁদতে গেলেও পালক হয়
জল খেতে গেলেও…
আমি নার্সকে বলি, ছুটিগুলো ভেজিয়ে দাও, আমার ঠাণ্ডা লাগছে…

ওগলানো পিয়ানো থেকে বেসুরো কৃষক বাজাচ্ছে যে লোক
তাকে ছিঁড়ে ফ্যালো
ওই তো তার নেভানো রঙের খুন
ওই তো তার হেরে যাওয়া সভ্যতা
নুয়ে পড়া দেশ

হারানোর সময় পরনে কী ছিলো, আমি জানি না…

 

বারান্দা

যা কিছু দেখছি, সবই মেঘ মেঘে সুফি আস্কারা
তার দরদটি বাঁশপাতার কচি
লেঠেল হওয়ার আগে পালোয়ান কবিতা পড়ছেন
এক পৃথিবী কবির খুঁটিনাটি পুষে রাখছেন পেশীর তন্তুতে
আমরা ঘুমোবো ওইখানে
ওই মাসলের মা-বর্ণে
বিকেলে লড়াই দেখবো পায়রা-মানুষে
কত সাদা পালক কত সাদা পালক

যা কিছু ঘুমোচ্ছি, সবই পৃথিবী, সবই সাদা

 

অভিনয়

আমি আর পারছি না ঠাকুর…
বাবা বললেন, এই ডায়ালগ ছায়াদেবীকে মানাতো— তোর মুখে! ছিঃ…
আমি ভাবি, ছায়ার স্ত্রীলিঙ্গ –
স্ত্রীলিঙ্গের ভগবান…
আর ভগবান ফাঁক করা মুহূর্তে আমি বেরিয়ে আসছি
ঘর থেকে
নদী থেকে
পৃথিবীর তুমুল লিঙ্গেরা খুঁজে বেড়াচ্ছে আমায়
আর সেই দৌড়ের মধ্যেই ভারি হয়ে আসছে
আমার চোখ, জিভ
ও যাবতীয় যা কিছু এতদিন ওই ঘরের, ওই নদীর
আমি লিঙ্গের ভগবানকে ডাকি,
আমার একটু কমিয়ে দাও ঠাকুর—
আমি আর পারছি না

 

বোঝাপড়া

আকাশ দেখলেই ইদানীং পাখি জন্মানোর গর্ত মনে হয়
একটা আকাশে কত যুগ-যুগ পাখিদের ডাক জমা থাকে–
তাদের কাজ মূলত কী?
কোনও কাজ যে সত্যি থাকতেই হবে, একথা আমায় কে বলেছে?
এভাবেই আমার অসহয়তা শুরু —
নিজেকে বিট্রে করা দিয়ে, আমি ডানায় পৃথিবী মাখি
গালে মাখি ভারতবর্ষ
আর রাজ্য জেলা বাকি যা কিছু সেগুলোর তাপ্পি দিই পরনে
আমার সহনশীল আদিগন্ত শরীর,
মানুষের বিশ্বস্ত মনে হয়…

 

শেষ সিন বসন্ত

সাম্প্রতিক বিপ্লবের পর,
আমি ফিরে যাচ্ছি নিজস্ব নিয়নে
এই আলোকিত ফেরাটুকু শুধু আমিই দেখতে পাই
আর তুমি, নবনীতা বা শ্রাবন্তী বা যারা যারা আমরা সেই ছোট থেকে বন্ধু ছিলাম…

পৃথিবীতে ঘুম আনা আলো, এ’ পৃথিবীরই কোনও কাজে লাগলো না —
এই নিয়ে একটা ট্রাজিক ফিল্ম বানানো যায়
শেষ সিনে মারপিটও রাখা যায়, ওই ধর্মযুদ্ধ গোছের,
প্রত্যেকটা গাছে আমাদের প্রতিবার মেরে ফেলা হবে–
আর বসন্ত নামবে ফিল্মে…

লোক হাততালি দেবে

এই মৃত্যু যে এডিটেড, সেটাও তারা বুঝবে না

 

তুমি এসো

তুমি এসো – এই মার্বেল ধ্বনি, টুকরো গীর্জা হয়ে যাচ্ছে অন্ধদের…
যেভাবে মাছের ভাষা ঘড়ি হয়ে দীর্ঘকাল হলো
চাপ চাপ রোদ জ’মে আছে শীত-মিলের
ভিতরে উড়ন্ত ওয়ার্কার
বেরোতে পারছে না
শার্সি তুষার তার সাইরেন
কেউ শুনতে পাচ্ছে না
নিহত ধাতুতে সেই গন্ধ চীৎকার করছে দীর্ঘতা

আমি একটা ফোক-টেইল ধরাই
আগুন জ্বালাই
মকবুল শব্দের পাশে ভিখিরীর ছেড়ে যাওয়া উষ্ণতা –
একই চপ্পল কেন বারবার স্বাধীনতার স্বপ্ন পায়ে দ্যায়?
শীতের মাছ জোট বাঁধে পৃথিবীর দিকে

এত মাছ, শারীরিক রাত হয়ে উঠছে জালে –
সেই রাতে
তারাদের বরফ গুছিয়ে দিচ্ছো তুমি

 

আজকের খবর

আদিগন্ত নিহত হলো –
পাখিগুলো ঝুলে পড়ল দেহে…
তার এক পয়সার ছায়া নিয়ে খেলা করছে বাচ্চারা
এক জীবনের পাখিতে – পালক নীরবতা…

দানাশস্য ঘিরে ছিল মৃত্যুটাকে
শীত-গন্ধ ফলো ক’রে তদন্ত এসেছিল…
আমাদেরই রাস্তা দিয়ে কতবার হেঁটে গেছে
কিছুটা নদীর ধারে অংশত মেঘলা সেই দেহ…

 

ক্রিম

লোকটায় ক্রিম লেগেছে
যখন-তখন ডায়াল হচ্ছে গন্ধ
এ’ অপরাধ, ও’ ফুল
আর ওই দিকে, বৌটার খুলে রাখা যোনি

রক্ত আছে। কিন্তু তার রঙ আসছে ট্রাংকলে
পতাকা আছে। তারা জানতে চাইছে স্বাধীনতার ডেট

লোকটা একটা কল করছে মানুষকে
রিংটোনে বেজে যাচ্ছে মানুষ

 

ফাঁদ

আরও কেউ এরপর
গুহা ও আগুন নিয়ে
লিখতে আসে তুষার কাহিনী

ফাঁদের গান
তারা রাত খুলে দিয়ে শোনে…
রেডিও থেকে বেরিয়ে আসে বাঘ

তার নখ, চাঁদের বয়সী ঠাণ্ডা…

 

ফিলামেন্ট

ইলেকট্রিক শকে স্থির হয়ে গেল শাহেনসা
সন্ধেয়, মুসাফির ব্লেড কাঁপছে
আতরদানির গন্ধগুলো কাঁপছে

এরপর বাল্ব জ্বলবে আমাদের পাড়ায়
ফিলামেন্ট
আলোর কলোনি বোনা দেখে
আমরা খেলবো বিদেশি সেই খেলা –
শাহেনসা ছিলো
শাহেনসা ছিলো না কখনও

 

রিক্সা

জলীয় নিঃশ্বাস টানা রিক্সায়
সওয়ারী চিহ্ন খুঁটে তোলো
আঙুলে লেগে থাক গাছের ভিতর পাওয়া আঠা —
ডাকঘরের ঘুলঘুলিতে একা
দিকতেষ্টারা…

ইষদুষ্ণ হাতের লেখা ছড়িয়ে
পৃথিবী অঘ্রাণ হয়
জমা হয় পাখি ও চাষের বুদবুদ
সমস্ত ঠিকানায়
কার শ্বাস টানা রিক্সা গিয়ে থামে —
ফুসফুস ঘনিয়ে আসে
তারও আছে আত্মহত্যার কেউ…

 

সিনেমা

শেষ দৃশ্যে
ফুসফুসের ভাঁজ দিয়ে ছুটে যাচ্ছে বাচ্চাটা…
ফ্রিজ শট হওয়ার আগে
মহিয়ান ক’রে তুলছে
এই পথ, দেখা
বহুতল জরায়ুর পাশে পাখি-পাখি ভাঙতে থাকা বিকেল
তার আইসক্রিম-গাড়ি, ঘণ্টি
মিঠে বরফের গায়ে চিরন্তন জলের আকিঁবুকি

এক ফোঁটা ধূ-ধূ অবকাশ —
নিঃশ্বাসের দিকগুলো লেগে আছে আবহাওয়ায়…

 

বসন্ত

উপকথার নকশা কাটা শিরা
রক্ত পড়ছে…
মা সেলাই হওয়া সুতোয়
আলো ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে অন্ধকার…
ছবিটা কাঁপছে, এক ভাতের হাঁড়িতে
সারারাত
সারারাস্তা
খুব হর্ন বাজে
আর কিছুতেই রাস্তা পেরোতে পারে না
বসন্তে আমার এক অস্থায়ী ভাই —
বাইরে পা রাখলেই
বাহির এক ফস্কে যাওয়া খেলে তার সাথে…

 

নকশিকাঁথা

বেহেস্তের স্বপ্ন নিয়ে ঘুড়ি উঠলো…
লোকটার সবই সেলাই-বাক্স
যে ঘুড়ি ওড়াতো

এঁটো ঘুলঘুলি দিয়ে দেখতো
বহুযুগ চেরা এক স্টিচ –
সারি সারি মানুষের সেলাইয়ে – ঘুড়ি নামছে
কেউ ভাবছে বেহেস্তের উস্কো খুনসুটি
কেউ ভাবছে তাপ্পি —
মাইল মাইল মিথ্যে দেওয়া নীল

লোকটার সবই সেলাই-বাক্স
ব্লেড মারী ধানে, তিরতির ভাত ফোটার শব্দ…

 

শব্দ

আলো উলটে গড়িয়ে গেছে জন্ম…

লা-ইলাহী গির্জায়, উৎসবের ঘণ্টা বাজছে – বোবা
একদল শিশু জন্মের ক্ষেত মেখে নাচছে – বোবা

পৃথিবীর শব্দগুলো, বৃষ্টির ওই দিকে, কোনোদিন ছিলো

আজ লোকটা, আলোটুকু উলটে দিয়ে
শব্দহীন ঘুমিয়ে পড়েছে

 

শূন্য দশকে লিখতে আসা অপর-ধারার লেখকদের মধ্যে ইন্দ্রনীল ঘোষ এক উল্লেখযোগ্য নাম। বৈখরী-ভাষ্য ও ইন্ডিয়ারি পত্রিকার সাথে যুক্ত। কবিতা এবং গদ্য দুই-ই তাঁর মাধ্যম। বর্তমানে সিনেমা নিয়ে উৎসাহিত।
কবিতায় বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পরীক্ষা চালিয়েছেন ইন্দ্রনীল। কখনও তা যেমন, ভাষার গন্ডীর মধ্যে দাঁড়িয়েই সিম্যান্টিক ও সিন্ট্যাক্সের তারতম্যে বিবিধ ব্যঞ্জনার খেলা (‘রাত্রে ডেকো না, প্লিজ’, ‘জুলাইওয়ালা’); তেমনই কখনও তা সেই গন্ডী পেরিয়ে চ’লে গেছে ধ্বনি কবিতা বা Sound Poetry-র দিকে (‘জুলাইওয়ালা’-র শেষভাগ, ‘লোকটা পাখি ওড়া নিয়ে বলছে’); আবার ‘সার্চ করছেন দেবাঞ্জন’-এ তিনি তুলে আনেন গ্রাফ-কবিতার প্রস্তাবনা, প্রশ্ন তোলেন কবিতার একটি নির্মিত-কাঠামোর মধ্যে লুকিয়ে থাকা অসংখ্য খামখেয়ালী (Arbitrary) কণাদের নিয়ে। খুব বিশেষ প্রয়োজন বাদে ইচ্ছাকৃত জটিলতার পরিপন্থী ইন্দ্রনীল মনে করেন, সমস্ত পরীক্ষা নিরীক্ষার মধ্যে দিয়েই লেখকের গন্তব্য আসলে সহজের দিকে।
ইন্দ্রনীলের এযাবৎ প্রকাশিত বইগুলি কালানুক্রমে,
কবিতা – রাত্রে ডেকো না, প্লিজ (প্রথম প্রকাশ ২০০৫), জুলাইওয়ালা (২০০৯), লোকটা পাখি ওড়া নিয়ে বলছে (২০১২)
গদ্য – সার্চ করছেন দেবাঞ্জন (২০১৫), নুলোর পৃথিবী ও অন্যান্য গল্প (২০১৬)

 

One Reply to “

গুচ্ছ কবিতা

ইন্দ্রনীল ঘোষ


  1. কবি পড়ে ফেললাম সবটা। বহুদিন পর একসাথে তোর এতগুলো কবিতা। দারুণ। অনেক অনেক আদর আর ভালবাসা নিস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *